1. admin@zzna.ru : admin@zzna.ru :
  2. md.masudrana2008@gmail.com : admi2017 :
  3. info.motaharulhasan@gmail.com : motaharul :
  4. email@email.em : wpadminne :

প্রকৃত ঈমানদারের পরিচয় গুণ ও প্রতিদান

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৪৬ বার

ইসলামীক ডেস্ক : আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে অনেক আয়াতে ঈমানদারদের অনেক গুণ উল্লেখ করেছেন। মুমিন এবং মুমিনুন নামে স্বতন্ত্র দুই সুরাও নাজিল করেছেন। তারপরও প্রায় সুরায় ঈমানদারে লক্ষ্য করে অনেক নসিহত করেছেন। কিন্তু সত্যিকারের ঈমানদার উল্লেখ করে তাদের কিছু বিশেষ গুণ ও প্রাপ্তির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

সত্যিকারের ঈমানদারদের পরিচয়, তাদের অবস্থা ও প্রাপ্তির কথা তুলে ধরে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

– إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ

‘যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন (তাদের সামনে) আল্লাহর নাম নেয়া হয়, তখন (আল্লাহর ভয়ে) ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম (কুরআন), তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় আর তারা স্বীয় পরওয়ারদেগারের (আল্লাহর) প্রতি ভরসা পোষণ করে।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ২)

– الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاَةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ

‘(তারা) সেসব লোক; যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে আর আমি তাদের যে রিজিক (জীবিকা) দিয়েছি, তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় (দান) করে।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ৩)

উল্লেখিত দুটি আয়াতে মহান আল্লাহ সত্যিকারের ঈমানদারদের ৫টি গুণের কথা তুলে ধরেছেন। যা তারা যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে নিজেদের সত্যিকারের মুমিন হিসেবে গড়ে তোলো। তাহলো-

– আল্লাহর নাম স্মরণ করলে বা শুনলেই অন্তরে ভয় সৃষ্টি হয়।
– কুরআন তেলাওয়াত শুনলে বা কুরআন তেলাওয়াত করলে ঈমান বেড়ে যায়।
– সব কাজে শুধু আল্লাহর উপর ভরসা করে।
– নামাজ প্রতিষ্ঠা করে।
– নিজের জীবিকা কম হোক বা বেশি হোক তা থেকে আল্লাহর পথে দান করে।

এদের সত্যিকারের ঈমানদার উল্লেখ করে পরবর্তী আয়াতে তাদের প্রতি প্রতিদান দেয়ার বিষয়টিও আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

– أُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَّهُمْ دَرَجَاتٌ عِندَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ

‘তারাই হল সত্যিকারের ঈমানদার! তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদেগারের কাছে মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রিজিক তথা জীবিকা।’ (সুরা আনফাল : আয়াত ৪)

উল্লেখিত আয়াতের ঘোষণায় একজন ঈমানদারের জন্য সবচেয়ে খুশির খবর আর কী হতে পারে? এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রকৃত ঈমানদার ঘোষণা করে তাদের জন্য ৩টি সেরা প্রতিদান ঘোষণা করেছেন। তাহলো-

– আল্লাহর কাছে তারা মর্যাদাবান।
– আল্লাহর কাছে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা।
– আল্লাহর কাছে তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক জীবিকা।

মনে রাখা জরুরি
মানুষের এ ঈমান এমন এক শক্তিশালী জিনিস, যার প্রভাবে মানুষ দুনিয়ার সব অন্যায়-অপরাধ তথা সব ধরনের গোনাহের কাজ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিতে পারেন। হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি ও মুসলিমে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈমানদারের ঈমানি শক্তি বর্ণনা এভাবে দিয়েছেন যে-

‘পরিপূর্ণ (প্রকৃত) ঈমানদার (তার ঈমান থাকা) অবস্থায় ব্যাভিচারি (কোনো ব্যক্তি) ব্যাভিচারে লিপ্ত হতে পারে না। চোর পরিপূর্ণ ঈমানদার অবস্থায় চুরি করতে পারে না। আর মদখোর পরিপূর্ণ ঈমানদার অবস্থায় মদপান করতে সক্ষম হয় না।’ (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত সুরা আনফালের ২ ও ৩নং আয়াতের ঘোষিত ৫টি গুণের আলোকে নিজেদের পরিচালিত করা এবং ৪নং আয়াতে ঘোষিত জীবনের শ্রেষ্ঠ ৩টি মর্যাদা লুফে নেয়া। তবেই দুনিয়া ও পরকালে বান্দা হবে সফল ও স্বার্থক।

আল্লাহ তাআলা মুমিন মুসলমানকে সুরা আনফালের এ ৩টি আয়াতের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। নিজেদের প্রকৃত ঈমানদার স্বীকৃতি পাওয়ার এবং সেরা ৩টি নেয়ামত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

বাংলার বিবেক ডট কম – ৩১ জানুয়ারি, ২০২১

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 BanglarBibek
Customized BY NewsTheme