1. md.masudrana2008@gmail.com : admi2017 :
  2. info.motaharulhasan@gmail.com : motaharul :
পদ্মা সেতু পার হয়ে সবুজ পেয়ারা যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম - Banglar Bibek
শিরোনাম :
ভলকানাইজিং দোকান পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে বিশাল পেটের ‘মৌচাক’ ভাঙা হবে কী ভাবে, চিন্তায় চিকিৎসকেরা আধ কিলোমিটার উঁচু, তিন কিলোমিটার পরিধি! ঝুলন্ত শহর তৈরি হচ্ছে দুবাইয়ে? প্রায়ই মাথা যন্ত্রণায় ভোগেন? ঘরোয়া উপায়ে কী ভাবে মিলবে স্বস্তি প্রেমিকার দু’ লক্ষ টাকার ব্যাগে প্রস্রাব প্রেমিকের! আদালতের নির্দেশে দিতে হল ক্ষতিপূরণ পার্টিতে হুল্লোড়ে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী! ফিনল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ল রুশ যুদ্ধবিমান হাতিয়ায় ট্রলারডুবি, ৩ জেলের মরদেহ উদ্ধার হাজার নেকি অর্জনের ছোট্ট তাসবিহ ডিএফসি’র অর্থায়নে আরও মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ মীরজাফরকে মেরে ২৫০ বছর ধরে জেলখানায়
শিরোনাম :
ভলকানাইজিং দোকান পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে বিশাল পেটের ‘মৌচাক’ ভাঙা হবে কী ভাবে, চিন্তায় চিকিৎসকেরা আধ কিলোমিটার উঁচু, তিন কিলোমিটার পরিধি! ঝুলন্ত শহর তৈরি হচ্ছে দুবাইয়ে? প্রায়ই মাথা যন্ত্রণায় ভোগেন? ঘরোয়া উপায়ে কী ভাবে মিলবে স্বস্তি প্রেমিকার দু’ লক্ষ টাকার ব্যাগে প্রস্রাব প্রেমিকের! আদালতের নির্দেশে দিতে হল ক্ষতিপূরণ পার্টিতে হুল্লোড়ে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী! ফিনল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ল রুশ যুদ্ধবিমান হাতিয়ায় ট্রলারডুবি, ৩ জেলের মরদেহ উদ্ধার হাজার নেকি অর্জনের ছোট্ট তাসবিহ ডিএফসি’র অর্থায়নে আরও মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ মীরজাফরকে মেরে ২৫০ বছর ধরে জেলখানায়

পদ্মা সেতু পার হয়ে সবুজ পেয়ারা যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০২২
  • ৩৬ বার
6 / 100

অনলাইন ডেস্ক : স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার স্বরুপকাঠী উপজেলার আটঘর-কুড়িআনার পেয়ারা বাগানের পেয়ারা কিনতে বেপারী বেড়েছে। ঢাকায় পেয়ারা পাঠাতে এখন আর পঁচার ভয় নেই। পেয়ারা চাষী ও ব্যাবসায়ীদের সাথে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ জেলার মানুষের আগে যেখানে পিরোজপুর থেকে ঢাকা যেতে সড়ক পথে সময় লাগতো ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা। এখন তিন থেকে চার ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে ঢাকায়। আর আর পেয়ারা, আমড়া , কলা সহ অন্যান্ন পন্য পরিবহনেও সর্বোচ্চ সময় লাগবে সারে ৪ থেকে সারে ৫ ঘন্টা।

পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারন অফিস সূত্রে জানাগেছে, পিরোজপুরের ৬লাখ কৃষক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হবেন পেয়ারা চাষে। জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল ধানের পরে রয়েছে পেয়ারা,আমড়া,কলা। পেয়ারার চাষ হয় শুধু স্বরুপকাঠীতে আর এর পরে আমড়া।

স্বরূপকাঠী উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রক্তিম কুমার ঘরামী বলেন, স্বরূপকাঠীর ২ হাজার পরিবার পেয়ারা চাষে জড়িত। এছাড়া বরিশালের বানারীপাড়া ও ঝালকাঠীর বেশ কিছু এলাকার লোক পেয়ারা চাষে জড়িত। উপজেলা কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, বর্তমানে স্বরূপকাঠি উপজেলার প্রায় ৬শত ৫০ হেক্টর জমিতে ২হাজার ২৫টির মতো বাগান রয়েছে। এ বাগানে প্রতি বছরই পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকার পেয়ারা উৎপাদিত হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রতিমন পেয়ারা দেড়শ থেকে দুইশত টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে চাষীদের।

চাষীরা মধ্যসত্বভোগীদের মাধ্যমে পেয়ারা ঢাকা পাঠাতেন যাত্রীবাহী লঞ্চে বা ট্রলারে করে। এতে যেমন সময় লাগতো ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা, তেমনি তরতাজা ফলটিও অনেক সময় পেকে যেতো বা পচে যেত। পদ্মা সেতুর কারনে সড়ক পথেই সরাসরি চাষীরা দ্রুত পচনশীল এ পণ্যটি ঢাকায় সহ অন্যান্ন এলাকায় পৌছাতে পারছেন। সড়ক পথে তাদের খরচও কম হচ্ছে।

স্বরূপকাঠির কুড়িআনা এলাকার কালীপদ হালদার জানায়, বাগান করার তিন বছরের মধ্যে আমড়ার ফলন পাওয়া যায়। একনাগারে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত আমরা উৎপাদন হয়। প্রতিমন আমড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়। যাত্রীবাহী লঞ্চ অথবা সড়ক পথে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় এ পণ্যটি। এতে চাষীরা বেশি লাভবান হতে পারতেন না। এখন পদ্মা সেতু হওয়ায় আমড়া অল্প সময়ের মধ্যেই পাঠানো যাবে ঢাকায়। চাষীরা নিজেরাই আমড়া ঢাকা ও চট্রগ্রামে বড় বাজারগুলোতে বিক্রি করতে পারবেন। এতে মধ্যসত্বভোগীদের সহযোগিতার প্রয়োজন হবে না। লাভও বেশি হবে বলে জানিয়েছেন চাষীরা।

বর্ষা মৌসুমে এখানকার উৎপাদিত পেয়ারা, আমড়া, লেবু ও কলা ট্রাক বা ট্রলারযোগে ঢাকা পৌঁছাতে ১৬ থেকে ২৪ ঘন্টা সময় লাগে। এ সময়ের মধ্যে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পেয়ারা পেকে যেত অনেক সময় পচেও যেত। আর আমড়াও পেকে যেত। ফলে পাইকারী এবং খুচরা বিক্রেতা উভয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়।

কুরিয়ানা ইউনিয়নের জিন্দাকাঠী এলাকার পেয়ারা চাষী দিলীপ মজুমদার জানান, তিনি ৯ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ করেছেন। গত বারের চেয়ে এবারের ফলন ভালো কিন্তুু সময়মত বৃষ্টি না হওয়ার কারনে পেয়ারার সাইজ ছোটো হয়েছে বলে জানান চাষী দিলীপ মজুমদার।

উপজেলার মাহামুদকাঠী এলাকায় বাড়ী তাপস বড়ালের। বাগান থেকে পেয়ারা কিনে ঢাকায় পাঠান তিনি। প্রায় ২০ বছর ধরে পেয়ারা, আমড়ার মৌসুমে এ কাজটি করছেন তিনি। পদ্মা সেতু আমাদের জন্য আশির্বাদ। এসময় প্রতিবছর ঢাকায় পেয়ারা পাঠাতে গিয়ে পদ্মার এপারে ঘাটে ট্রাক বোঝাই পেয়ারা আটকা পড়ে পচে গেছে। মৌসুমে ৭ থেকে ৮ ট্রাক পেয়ারা আটকা পড়ে পচে গেছে। একারনে লোকসান গুনতে হয়েছে বলে জানান তাপস বড়াল। এরপর তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৭ ট্রাক পেয়ারা ঢাকায় পাঠিয়েছেন। সব পেয়ারাগুলো সবুজ। এখন আর পচার ভয় নেই।

লক্ষীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরলরেঞ্জ ইউনিয়নের শহীদ নগর এলাকার আলাউদ্দিন বাবুলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিনি ১২ বছর ধরে এখান থেকে পেয়ারা কিনছেন। পদ্মা সেতু হওয়ার কারনে এখানে বেপারী বাড়ছে আর পেয়ারার দামও বাড়ছে। বর্তমানে পেয়ারা মন প্রতি ৫শত৫০ টাকা দরে কিনছেন। গেল বছর এই সময় পেয়ারার মন ছিল ২শত থেকে ৩শত পঞ্চাশ টাকা।

আটঘর বাজারে থাকা আড়ৎদার মোশারেফ মল্লিক জানান, পদ্মা সেতু হওয়ার কারনে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেযারা পাঠানো সহজ হলো।

স্বরুপকাঠী উপজেলার কুরিয়ানা ইউ পি চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার বলেন, এখন ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ টাটকা পেয়ারা খেতে পারবে। সব মানুষ ঝক্কি ঝামেলা ছাড়া সহজেই পেয়ারা বাগানে ঘুরতে আসতে পাবে। তিনি বলেন, পেয়ারার মৌসুমে পদ্মা থাকে উত্তাল। অনেকেই ভয়ে আসতে চেতনা পেয়ারা বাগানে। পর্যটকদের সে ভয় আজ থেকে কেটে গেল। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান বলেন পেয়ারা বাগানে ঘুরতে এসেছেন আমেরিকার রাষ্ট্রদূত, ভারতের রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ দেশী বিদেশী পর্যটকরা।

স্বরুপকাঠী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম মুইদুল ইসলাম বলেন, পেয়ারা বাগানকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর জমে ওঠে ভাসমান পেয়ারার হাট । শুধু পেয়ারা নয় ভাসমান হাটে বিক্রি হয় নানা ধরনের কৃষি পন্য। এ হাট দেখতে বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক আসে । পদ্মা সেতুর কারনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এরপর তিনি বলেন, সুস্বাধু ও পুষ্টিকর ফলের তালিকায় রয়েছে আমড়া। ফরমালিন মুক্ত এ ফলটি সবাইরই প্রিয়। আমড়া চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরাও ঝুকছেন আমড়া চাষে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে আমড়া পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রতি বছর আমড়া বিক্রি করে চাষীরা কয়েক কোটি টাকা আয় করছেন।

পিরোজপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীব বলেন, পদ্মা সেতু উদ্ভোধন হয়েছে। এখন আমাদের জেলায় শিল্প কারখানা বেড়ে যাবে। উদ্যোক্তাও বাড়বে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন হবে। পিরোজপুর থেকে আমরা অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবো। এটা মানুষের দীর্ঘ দিনের একটি স্বপ্ন ছিল, সে স্বপ্ন পূরণ হলো পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের মধ্য দিয়ে।

বাংলার বিবেক /এম এস

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 BanglarBibek
Customized BY NewsTheme