1. admin@zzna.ru : admin@zzna.ru :
  2. md.masudrana2008@gmail.com : admi2017 :
  3. info.motaharulhasan@gmail.com : motaharul :
  4. email@email.em : wpadminne :

রাজশাহী নৌরুটে: এক সপ্তাহ ধরে ভাসছে পণ্য বোঝাই জলযান

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ১৯ বার
রাজশাহী নৌরুটে: এক সপ্তাহ ধরে ভাসছে পণ্য বোঝাই জলযান
রাজশাহী নৌরুটে: এক সপ্তাহ ধরে ভাসছে পণ্য বোঝাই জলযান

* সম্ভাবনাময় নৌ-বাণিজ্যের এ পথ পরিক্ষামূলক যাত্রায়

   পদ্মায় নাব্য সংকটে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি

* নব্যতা সমস্যায় নিরসনে ভারত ৮০ বাংলাদেশ ২০ শতাংশ

   ব্যয়ে ড্রেজিঙের প্রস্তাবনা দিয়ে ভারতকে চিঠি

মিজানুর রহমান (টনি): চলতি মাসে ১২ তারিখে প্রায় ৬০ বছর পর চালু হয়েছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ থেকে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার মায়া আন্তর্জাতিক নৌ-রুট। সম্ভাবনাময় নৌ-বাণিজ্যের এ পথ পরিক্ষামূলক যাত্রায় পদ্মায় নাব্য সংকটে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি। তবে অতি-শিগগিরই এ সমস্যা দূরীকরণের বিষয়ে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নৌ রুটটিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারী থেকে চিপস পাথর (ঢালাই দেওয়ার পাথর) ১৮৩ টন পাথর বোঝাই বাংলাদেশের একটি বলগেট আটকা রয়েছে। সুলতানগঞ্জ ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশের পদ্মার চরে আটকে আছে। এদিকে বলগেটটি আটকে পড়ার পর এই নৌ রুট দিয়ে আপাতত কেউ পণ্য আমদানি-রপ্তানি করছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্বোধনের পর তিনটি ট্রায়াল রান হয়েছে। মোট ৫ টি ট্রায়াল রানের পর নিয়মিত হবে আমদানি-রপ্তানি। রাজশাহী অংশে ১৭ কিলোমিটার রয়েছে এই নৌ-রুট। এরমধ্যে ১ থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকায় নাব্যতা সমস্যা রয়েছে। আর এ কারণে ব্যাহত হচ্ছে চলাচল।

এদিকে, পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে নদীতে আটকা পড়ে আছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী পাথরবোঝাই জাহাজ ‘এমভি আতিয়া’। ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় দুইশো টন পাথর নিয়ে ওইদিন সকাল ১০টায় ময়া নদীবন্দর ছেড়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে আসার কথা ছিল জাহাজটির। কিন্তু সুলতানগঞ্জ নৌঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাকিমপুরে পদ্মার চরে আটকা পড়ে এমভি আতিয়া। এতে বিপাকে পড়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, পদ্মায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার অংশে পানির গভীরতা কম থাকায় সমস্যা হচ্ছে। তবে এরইমধ্যে তিনটি ট্রায়াল ভালোভাবেই দেয়া সম্ভব হয়েছে। এখন যেহেতু কিছুটা সমস্যা হচ্ছে, তাই ড্রেজিঙের বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এরইমধ্যে ভারতকে ড্রেজিঙের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। দুই দেশ সমন্বয় করে ড্রেজিঙের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। যেখানে ভারত ৮০ শতাংশ ও বাংলাদেশ ২০ শতাংশ ব্যয় বহন করবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিকারক নব্য সংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করায় এমনটা হতে পারে। তবে বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, মেঘনা ট্রেডার্সের মাধ্যমে ১৮৩ টন ভারতীয় চিপস পাথর আমদানি করেন মো. মনিরুজ্জামান। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দর থেকে পাথর বোঝাই করে বলগেটটি রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জ ঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু সুলতানগঞ্জ ঘাট থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশ সীমান্তে পদ্মার হাকিমপুর  চরে এসে সেটি আটকে যায়।

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌ রুটের মধ্যে ২০০ মিটারের মতো একটি জায়গা আছে। সেখানে পণ্যবোঝাই জলযান যাতায়াতের জন্য নদীর গভীরতা তুলনামূলক কম। গ্রীষ্ম মৌসুমে এই রুটে নদীতে পানি কমে যায়। যদি ড্রেজিং করা হয় তবে এই সমস্যা থাকবে না।’

বলগেটটি উদ্ধারে মেঘনা ট্রেডার্স কর্তৃপক্ষ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে। তাদের আবেদন- বলগেটটি যেহেতু দেশের সীমানায় রয়েছে সেহেতু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তারা অন্য জলযান পাঠিয়ে পাথর কমিয়ে দুটিতে করে সেগুলো আনবেন। এজন্য সহযোগিতা চান তারা। এদিকে, বলগেটটি আটকা পড়ার পর নাব্য সংকটের কারণে এখন আপাতত এই পথে পণ্য আমদানি-রপ্তানি করছে না কেউ।

আমদানিকারক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সড়ক পথে বন্দরের পরিবর্তে এই নৌবন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে প্রায় ২০ দিন সময় কম লাগে। একজন ব্যবসায়ী এলসি খোলার পরের দিনই এই নৌবন্দর দিয়ে পাথর আমদানি করতে পারেন। সেই সঙ্গে সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার সড়ক পথের খরচ।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে ভারতীয় পাথরের চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা এই রুটের দিকে তাকিয়ে আছে। তবে নাব্য সংকট থাকলে এই রুট থেকে আমদানিকারকেরা মুখ ফিরিয়ে নিবে। সরকার না করে দিলে আমাদের বললেও আমরা ড্রেজিং করে নিব। একোমডেশন ঠিক করা গেলে প্রতিদিন একটি বলগেটে করে এই নৌরুটে ৫০০ টন পাথর আমদানি করা সম্ভব।’

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর ক্রয় ও সংরক্ষণ বিভাগের পরিচালক মু. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই নৌ রুটের একটি অংশে সামান্য নাব্য তথা পলিমাটিজনিত সমস্যা রয়েছে। আমাদের নির্দেশনা রয়েছে যাতে নৌযানে সাড়ে পাঁচ ফিট (ড্রাফট) গভীরতা নিয়ে মালামাল পরিবহন করা হয়। আমদানিকারক সম্ভবত ওই নির্দেশনা অমান্য করেছে। যে কারণে তাদের পণ্যবোঝাই জলযানটি পরিচালক সন্দেহ করছে সামনে এগুলো হয়তোবা আটকে যেতে পারে। এই সম্ভাবনার কারণে জলযানটি সেখানে আটকে রাখা হয়েছে। তবে আটকানোর সম্ভাবনা কম রয়েছে বলে আমরা মনে করছি। তবে বিষয়টি আমরা দেখছি।’ তিনি বলেন, আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে এটা বলা যাবে না। কিছু সমস্যা হচ্ছে। এতে কার্যক্রম কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে অতি-শিগগিরই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরীর আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2020 BanglarBibek
Customized BY NewsTheme