ঢাকাSaturday , 29 August 2026
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এআই ব্যবহারে অতিনির্ভরতা নিয়ে ক্ষমা চাইলেন হ্যাঙ্ক গ্রিন

banglarbibek
August 29, 2026 9:49 am । ২০৮ জন
Link Copied!
একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক।: জনপ্রিয় ইউটিউবার, লেখক ও কৌতুকশিল্পী হ্যাঙ্ক গ্রিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ব্যবহারে অতিরিক্ত নির্ভরতার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। প্রায় ৩২ লাখ সাবস্ক্রাইবারের এই কনটেন্ট নির্মাতা বলেছেন, এআইয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটানো তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য যেমন স্বাস্থ্যকর নয়, তেমনি বৃহত্তর সমাজের জন্যও ইতিবাচক নয়।

সম্প্রতি একটি শিক্ষামূলক ভিডিও প্রকাশের পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ভিডিওতে ব্যবহৃত কিছু বক্তব্য দেখে অনেক দর্শকের সন্দেহ হয়, তিনি চিত্রনাট্য তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করেন, ভুলবশত চ্যাটবটের একটি উত্তরও ভিডিওতে রয়ে গেছে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হ্যাঙ্ক গ্রিন জানান, সময়ের চাপের কারণে তথ্য ও গবেষণাসংক্রান্ত উপকরণ সংগ্রহে তিনি চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিলেন। তবে বিতর্কিত মন্তব্যটি চ্যাটবটের লেখা নয়, বরং ভিডিওর অতিথির বক্তব্যের জবাব ছিল।

পরবর্তীতে রেডিটে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দর্শকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি বিব্রত এবং অনেক দর্শক হতাশ হয়েছেন। তাই আপাতত ভিডিও প্রকাশের গতি কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হ্যাঙ্ক গ্রিন জানান, গবেষণা ও তথ্যসূত্র খুঁজতে এআইয়ের সহায়তা নিলেও ভিডিওর ভাষা, বিশ্লেষণ ও মতামত সম্পূর্ণই তার নিজের। তবে তিনি স্বীকার করেন, অতিরিক্ত এআই ব্যবহারের ফলে তার সৃষ্টিশীলতার স্বাতন্ত্র্য কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন সমালোচনা পুরোপুরি অযৌক্তিক নয়।

তিনি বলেন, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিরোধী নন। তবে এ প্রযুক্তির পরিবেশগত প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার বিষয়টি তাকে উদ্বিগ্ন করে।

গ্রিনের ভাষায়, সবচেয়ে বড় ভয় হলো দর্শকদের আস্থা হারানো। দ্রুত কাজ শেষ করার তাড়নায় তিনি নিজের সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া থেকেও দূরে সরে যাচ্ছিলেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে তিনি কিছুদিন কম ভিডিও প্রকাশ করবেন এবং চিত্রনাট্যনির্ভর কনটেন্টের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ভাবনা থেকে তৈরি ভিডিওর সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বড় ভাষা মডেলভিত্তিক এআইয়ের সঙ্গে অতিরিক্ত সম্পৃক্ততা তাকে এক ধরনের অস্বাস্থ্যকর মানসিক অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তার মতে, মানুষের বাস্তব অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা থেকে দূরে সরে যাওয়া কোনো সৃষ্টিশীল মানুষের জন্য কখনোই ইতিবাচক হতে পারে না।