ঢাকাSaturday , 29 August 2026

ফোনে উত্ত্যক্ত-হুমকি, যেভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন

banglarbibek
August 29, 2026 9:52 am । ৬ জন
Link Copied!
একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

মোবাইল ফোনে কল দিয়ে উত্ত্যক্ত করা, হুমকি দেওয়া কিংবা মুঠোফোন, মেসেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশেষ করে নারীরা এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত প্রমাণ সংরক্ষণ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কয়েকটি করণীয় তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আয়েশা সোনিয়া।
আইনজীবী আয়েশা সোনিয়া বলেন, বর্তমানে নারীদের মোবাইল ফোনে হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন চক্র সক্রিয় রয়েছে। কর্মজীবী নারী থেকে শুরু করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী—অনেকেই এ ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কখনো পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে কারো ফোন নম্বর ছড়িয়ে দিয়েও হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো নারী ফোনে উত্ত্যক্ত, হুমকি, ব্ল্যাকমেইল বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানির শিকার হলে বিষয়টি গোপন না রেখে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সব ধরনের প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে।

হয়রানিকারীর ফোন নম্বর, কললগ, খুদে বার্তা, ভয়েস মেসেজ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কথোপকথন ও অন্যান্য তথ্য মুছে না ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন আয়েশা সোনিয়া। এসব তথ্যের স্ক্রিনশট নেওয়ার পাশাপাশি সম্ভব হলে অডিও বা ভিডিও রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় তথ্যের ব্যাকআপ রাখতে হবে।

হুমকি গুরুতর হলে বা তাৎক্ষণিক নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ নম্বরে যোগাযোগ করেও সহায়তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়া যায়।

হয়রানিকারীর মোবাইল নম্বর, কলের তথ্য, মেসেজ ও অন্যান্য প্রমাণসহ নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা যেতে পারে। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী মামলা করার সুযোগও রয়েছে।

ফোনে বারবার উত্ত্যক্ত করা হলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বরাবর অভিযোগ করা যেতে পারে।

অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নম্বর ও হয়রানির তথ্য সংযুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বার্তা, হুমকি, ব্ল্যাকমেইল কিংবা অন্য ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার হলে পুলিশের সাইবার ইউনিটের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। নারীরা সাইবার হয়রানির ক্ষেত্রে পুলিশের ‘Cyber Support for Women’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও সহায়তা চাইতে পারেন।

আয়েশা সোনিয়া বলেন, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীর নীরব থাকা উচিত নয়। অনেক সময় একজনকে টার্গেট করে একাধিক ব্যক্তি বা একটি সংঘবদ্ধ চক্র হয়রানিতে যুক্ত থাকতে পারে। তাই দ্রুত অভিযোগ করা এবং প্রমাণ সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘ব্ল্যাকমেইল কিংবা হয়রানির শিকার হলে পুলিশকে জানাতে এবং লিখিত অভিযোগ দিতে ভুলবেন না। দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিলে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।’