ঢাকাTuesday , 1 September 2026

নতুন সাজে ফিরছে রাজশাহীর সুইমিং পুল – Padmatimes24

banglarbibek
September 1, 2026 10:25 am । ২ জন
Link Copied!
একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকার পর নতুন উদ্যমে আবারও চালু হচ্ছে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার সকাল ৯টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এর নতুন যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অভ্যন্তরে থাকা এ সুইমিং পুলটি চালু হলে সাঁতারপ্রেমী, তরুণ-তরুণী, খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সুইমিং পুলটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় পুলে ময়লা-আবর্জনা জমে এবং বিভিন্ন সরঞ্জামও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে ছিল। এতে দীর্ঘ সময় ধরে সাঁতার শেখা ও অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন নগরীর ক্রীড়াপ্রেমী ও উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা।

পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় ক্রিস্টেল রিপেন সুইমিং ক্লাব সুইমিং পুলটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছ থেকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য সুইমিং পুলটি লিজ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে পুলটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার কাজ করা হয়েছে।

ক্রিস্টেল রিপেন সুইমিং ক্লাবের পরিচালক ও রাজশাহী মহানগর যুব দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জল আলী বলেন, “সুইমিং পুলটি আগে কার্যকর ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে উঠতি বয়সী অনেক ছেলে-মেয়ে সাঁতার শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অথচ সাঁতার জানা প্রত্যেক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাঁতার না জানার কারণে বিভিন্ন সময় পানিতে ডুবে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে।”

তিনি বলেন, নগরীতে পুকুরের সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে সাঁতার শেখার সুযোগও সীমিত হয়ে এসেছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও এখানে সাঁতার শেখার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সাঁতারকে ক্রীড়ার অংশ হিসেবে আরও জনপ্রিয় করতে ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

উজ্জল আলী আরও বলেন, ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক সময়ে সাঁতারের ব্যবস্থা করা হবে। নারীদের জন্য নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পৃথক সময়ের পাশাপাশি ড্রেসিং রুমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সুইমিং পুল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শফিউল্লাহ শেখ রিপন জানান, প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি ও কর্মজীবী মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ছেলে ও পুরুষদের জন্য পুল উন্মুক্ত থাকবে। বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাঁতারের সুযোগ পাবেন মেয়ে ও নারীরা। এরপর বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খেলোয়াড় ও চাকরিজীবীদের জন্য সাঁতার শেখা ও অনুশীলনের ব্যবস্থা থাকবে।

সাঁতার ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহারের জন্য প্রতি ঘণ্টায় জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করলে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।

সাঁতারু ও দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পুল এলাকায় গ্যারেজের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, পোশাক ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী নিরাপদে রাখার জন্য লকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লকার ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা ফি দিতে হবে।

আয়োজকরা বলছেন, শুধু বিনোদন নয়, সাঁতার শেখাকে নিরাপদ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং রাজশাহীতে সাঁতারচর্চার পরিবেশ আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।

আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সুইমিং পুলটি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে—এমন প্রত্যাশা আয়োজকদের। তারা রাজশাহীর সব বয়সী সাঁতারপ্রেমী, তরুণ-তরুণী, নারী, খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষকে সুইমিং পুলের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।