ঢাকাSaturday , 29 August 2026

১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষক পাবেন কার্ড, মিলবে ১০ ধরনের সুবিধা

banglarbibek
August 29, 2026 9:46 am । ১ জন
Link Copied!
একাত্তর পোস্ট অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: কৃষি খাতে ভর্তুকি, ঋণ ও প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুবিধা সহজলভ্য করতে দেশের ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব কার্ড বিতরণ করা হবে। এ সুবিধার আওতায় মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষকরা। এর মধ্যে রয়েছে- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বিমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ, কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ, আবহাওয়ার তথ্য এবং রোগবালাই দমনে পরামর্শ।

এ কার্ডের মাধ্যমে জমির পরিমাণ অনুযায়ী সার কেনার সুযোগ থাকবে, যা অতিরিক্ত সার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি কৃষকদের অন্যান্য ভাতা বা সহায়তাও এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। তবে সুবিধাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ জন্য কয়েকটি উপজেলায় পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, কৃষকদের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এজন্য প্রতিটি কৃষকের নামে সোনালী ব্যাংকে হিসাব খোলা হবে। প্রথম ধাপে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের ২১ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

কৃষকদের জমির পরিমাণ অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাসও করা হচ্ছে। ৫ শতাংশের কম জমির মালিকদের ভূমিহীন, ৫ থেকে ৪৯ শতাংশের মালিকদের প্রান্তিক এবং ৫০ থেকে ২৪৯ শতাংশ জমির মালিকদের ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কার্ডে কৃষকের প্রায় ৪৫ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে প্রণোদনার অর্থ কৃষিকাজেই ব্যয় নিশ্চিত করা যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ১০টি উপজেলার কৃষি ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে তথ্য সংগ্রহ চলছে। এপ্রিলের মধ্যে এ কাজ শেষ করে পরে আরও ১৫টি উপজেলায় কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের আয়, জমির পরিমাণ ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার কাজও চলমান রয়েছে।

কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) কৃষক কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। সরকারের দাবি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, খরচ কমানো, কৃষিপণ্যের বিপণন উন্নয়ন এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সেলিম রায়হান মনে করেন, উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে সঠিক কৃষক শনাক্তকরণ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিগত সমন্বয় নিশ্চিত করা না গেলে প্রকৃত কৃষকেরা বঞ্চিত হতে পারেন। এজন্য তিনি একটি নির্ভুল ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি, স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই এবং কঠোর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।